স্থানীয়করণ, বৈদেশি সহায়তার স্বচ্ছতা এবং আত্ম-মর্যাদার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ সিএসও-এনজিও

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

প্রায় ৭০০ স্থানীয় সিএসও/এনজিওর ফোরাম বিডিসিওএসও প্রসেস তাদের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে আজ একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৬, ৮ ও ১০ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১১.৩০ টা থেকে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত ‘আত্ম-মর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন সিএসও/এনজিও খাত’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
এই উপলক্ষে রবিবার (৪ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বিডিসিএসওপ্রসেস’র প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্টের মোস্তফা কামাল আকন্দ।
বিডিসিএসও প্রসেসের রংপুর বিভাগীয় নেতা আকবর হোসেন, ময়মনসিংহ থেকে ফারুক হোসেন, ঢাকা থেকে শামীমা সুলতানা, বরিশাল থেকে আনোয়ার জাহিদ, খুলনা থেকে শেখ আসাদ এবং চট্টগ্রাম থেকে আরিফুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা রাখেন।
মোস্তফা কামাল আকন্দ উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশী স্থানীয় এনজিওগুলি জাতিসংঘের নেতৃত্বে আয়োজিত বিশ্ব মানবিক সম্মেলন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এই মানবিক সম্মেলন থেকেই ২০১৬ সালে ঘোষিত হয় গ্র্যান্ড বার্গেইন (২০১৬) প্রতিশ্রুতিমালা, যে দলিলটি স্থানীয়করণ, সহায়তার স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণ বিপ্লবের ধারণাকে রূপায়িত করে। জাতিসংঘ এবং আইএফআরসি’র উদ্যোগে প্রণীত হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রিন্সিপাল অব পার্টনারশিপ (২০০৭)। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহ চার্টার ফর চেঞ্জ (সি৪সি -২০১৫) নামক আরও একটি দলিলে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক এসব প্রতিশ্রুতি, নীতিমালাগুলোর আলোকে বাংলাদেশে এনজিও খাতকে ঐক্যবদ্ধ করতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাগুলো এবং স্থানীয়করণ বিষয়ক ধারণাগুলোর প্রচার ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বিডিসিএসও প্রসেস গঠিত হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও / সিএসওসমূহকে সমৃদ্ধ করা, বিশেষত আইএএসসি (ইন্টার এজেন্সি স্ট্যান্ডিং কমিটি) প্রণীত স্থানীয়করণ সম্পর্কিত সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নীতি নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা, যা বর্তমান কোভিড ১৯ সংকটকালে বিপন্ন স্থানীয় অংশীজনদের নেতৃত্ব পুন:প্রতিষ্ঠা করতে এবং নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতার উপর নির্ভরশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে। সোশ্যাল ওয়াচ উরুগুয়ের রবার্তো বিসিও, আইসিভিএ সুইজারল্যান্ডের ইগনাসিও প্যাকার, হিউম্যিানিটারিয়ান ফোরাম যুক্তরাজ্যের ড. হ্যানি আল বান্না, আইএসএস এবং ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান স্টাডি এসোসিয়েশন নেদারল্যান্ডসের প্রফেসর থিয়া হোর্স্ট, ভারত থেকে সুদানশু সিং, ফিলিপাইনের মিসেস ন্যানেট, সি৪সি এন্ড ক্যাফোড যুক্তরাজ্যের মিঃ হাওয়ার্ড মোললেট, জিএমআই সুইজারল্যান্ডের স্মৃতি প্যাটেল এবং কোয়েনরাড ভ্যান বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তৃতা করবেন। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে উপস্থিত থাকবেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহপরিচালক রাশাদুল ইসলাম। এডাব থেকে রোকেয়া কবির ও জয়ন্ত অধিকারী, নারী পক্ষ থেকে শিরীন হক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম, সিডিএফ থেকে মোর্শেদ সরকার, এফএনবি থেকে রফিকুল ইসলাম এবং সুপ্র থেকে আবদুল আউয়ালের মতো জাতীয় নেটওয়ার্কসমূহের নেতৃবৃন্দও এতে যোগ দিবেন। প্রায় ৫০০ স্থানীয় এনজিও / সিএসও প্রতিনিধি জাতীয় এই সম্মেলনের ভার্চুয়াল বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন।

সংবাদ সম্মেলন রংপুর থেকে সংযুক্ত আকবর হোসেন বলেন, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাগুলি এখন আরও বেশি সক্ষম, এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কেবলমাত্র মনিটরিং এবং এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। বরিশাল থেকে সংযুক্ত আনোয়ার জাহিদ বলেন, স্থানীয় এনজিও / সিএসওরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করতে চাই। খুলনার শেখ আসাদ বলেন, সরকারের রূপকল্প ২০২১ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতির কথা এই সম্মেলন থেকে পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। চট্টগ্রামের আরিফুর রহমান বলেন, স্থানীয় এনজিও / সিএসওগুলিকে আত্ম-মর্যাদাসম্পন্ন ও আত্মনির্ভর হতে হবে, আর এর জন্য আমাদের জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহের সহযোগিতা প্রয়োজন।