‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পুঁজি করে মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ চেয়ারম্যান টিপুর

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

 গত ১৬ আগস্ট কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবে বীরপ্রতীক (সার্জেন্ট) জনাব এসএম নুরুল হক একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যাচার ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে। যা আমি নিন্ম সাক্ষরকারীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলণে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মিথ্যাচার করে আমাকে বিতর্কিত করার নগ্ন চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং উক্ত সংবাদ সম্মেলণে আনিত অভিযোগ ও মিথ্যাচারের ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে গত ২৭ জুলাই এর একটি ঘটনাকে টেনে এনে আমাকে জড়ানো হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ ২২ দিন পর বীরপ্রতীক নুরুল হকের সংবাদ সম্মেলনটি কোনোভাবেই যৌক্তিতা পায় না এটা প্রশাসনসহ সর্ব সাধারণের বোধগম্য একটি বিষয়। কারণ- সেদিন বীরপ্রতীক নুরুল হকের ছেলে যখন ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক হন তখন আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। বরং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ফোন দিয়ে আমাকে ডেকে নেন। এছাড়াও গত ২৭ জুলাইয়ের ঘটনায় তাদের কোনো ওজর আপত্তি থাকলে তারপরদিন কেনো সংবাদ সম্মেলণ করেনি। এতোদিন পর এসে পুরোনো ঘটনাকে টেনে এনে সংবাদ সম্মেলণ করা একটি প্রশ্নবিদ্ধ ব্যপার।

আসল ঘটনা হলো- গত ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আমি নির্বাচিত হই। সেই নির্বাচনে পরাজিত জামায়াত আমির মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান হলেন বীরপ্রতীক নুরুল হকের আপন ভাতিজি জামাই। নির্বাচনে এই জামাত প্রার্থীর পক্ষে গিয়ে বীরপ্রতীক নুরুল হকসহ তার পুরো পরিবার সরকার বিরোধী প্রচার-প্রচারনা চালায়। বীরপ্রতীকের ছেলে খোরশেদুল হক সাবেক সদর ছাত্রদলের খুরুস্কুলের সোহেল মেম্বার কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর রূপ পাল্টে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

বীরপ্রতীক নুরুল হক বীর খেতাব থাকলেও তার পুরা পরিবার বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও তার আত্মীয় স্বজনেরা সরকার বিরোধী আন্দোলনের নাশকতা মামলার আসামী। আমি যথেষ্ট শঙ্কা এবং উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি এই বীরপ্রতীক সামনের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উঠে পড়ে লেগেছে। এছাড়াও পূর্বের নির্বাচনে তার ভাতিজি জামাই জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুরকে হারানোর প্রতিশোধের আগুণে হয়তো জ্বলছে। শুধু তাই নয়, আমি অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সৎ কাজ-কর্মের মাধ্যমে দিন দিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের চোখের বালি হয়েছি। তাই বীরপ্রতীক ও তার পরিবার আমাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের রণাঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখা একজন মুজিব সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল আলম চৌধুরীর সন্তান হিসেবে বীর প্রতীক নুরুল হককে বাবার মতো সারাজীবন সম্মান ও শ্রদ্ধা করে এসেছি। আজকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- সেই পিতৃতুল্য মানুষটিই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছে। তাও আবার মাদক এবং জামায়াতি এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। এরচেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হয়েছে তা একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের ধারা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র হিংসা ও পরশ্রীকাতরতার বশীভূত হয়ে পিতৃতুল্য এই মানুষটি এহেন জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন। এটি আমাকে খুবই পীড়া দিয়েছে। আমি সন্তান হিসেবে নিজেকে খুবই তুচ্ছ ভেবেছি। এরপরও এই প্রতিদান দিলেন এই মহান ব্যক্তি।

বিগত ৪ বছরে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে অভ’র্তপুর্ব উন্নয়ন হয়েছে যা বিগত ২০ বছরেও হয়নি। আমি কয়েকবার শ্রেষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। বিভাগীয় স্বর্ণ পদক পেয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালেয়ের অধীনে সম্মানিত হয়ে ভারত ও মালয়শিয়া দুইবার সফর করেছি। বর্তমানে সুনামের সাথে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ কর্ম করেছি যা ৯০শতাংশ দৃশ্যমান। করোনাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৫৫টি গ্রামে সরকারি-বেসরকারি এবং নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।

পরিশেষে বলতে চাই- নুরুল হকের বীরপ্রতীক খেতাব ব্যবহার করে যেভাবে তাঁর সন্তানেরা বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে জনগণ এর একটি বিহীত ব্যবস্থা করবেন। জনগণই সব ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দিয়ে পুণরায় আমার পাশে দাড়াবেন। ইনশাআল্লাহ।

টিপু সুলতান
ইউপি চেয়ারম্যান
ঝিলংজা, সদর, কক্সবাজার।