বকেয়া মেস ভাড়ার জন্য ০৬ ছাত্রীকে তালাবদ্ধ

বকেয়া মেস ভাড়ার জন্য ০৬ ছাত্রীকে তালাবদ্ধ

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

মোঃ সফিকুল ইসলাম শরীফ

মুরাদনগর(কুমিল্লা)প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ধর্মপুরে মেস ভাড়া বকেয়ার জন্য আটকে রাখ কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছয় ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখা সংলগ্ন ধর্মপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিল নামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা ছাত্রীরা শেষে বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এসময় মেস মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর তারা বাড়িতে ছিলেন। আজ কিছু জরুরী মালামাল নিতে মেসে আসলে, ভাড়া বকেয়া থাকার কারণে মেস মালিক তাদের চার ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখে।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, মেসে ঢোকার পর বাড়ির মালিক তাদের দেখতে পেয়ে বাড়ির মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। ‘আমরা বলেছি, যেহেতু মেসে ছিলাম না, টিউশনও নেই। অর্ধেক ভাড়া দেব। কিন্তু বাড়ির মালিক পুরো ভাড়ার জন্য গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের আটকে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে সাহায্যের জন্য ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।’

এই বিষয়ে মেসের মালিক জানাহারা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘তাদের কাছে জন প্রতি ১০২০ টাকা করে তিন থেকে চার মাচের ভাড়া পাই। তারা অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে আমি বলেছি তাদের দুইশ টাকা করে কম দিতে। তারা তা না মেনে মেস ছেড়ে দিতে চাইলে, আমি বলেছি পুরো ভাড়া পরিশোধ না করলে মালামাল নেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে বহু ভাড়াটিয়া টাকা না দিয়ে চলে গেছে। আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বলেছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলব না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ চলে আমার।’

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা সাব-ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, কল পেয়ে টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বাসার প্রধান ফটকে তালা দেওয়া। মালিককে ডেকে তালা খোলা হয়। এ বিষয়ে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়া ছাত্রী দুই পক্ষের সঙ্গে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, আর ছাত্রীরা মহামারির সময়ে অর্ধেক ছাড় চায়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সমাধান করে, তাদের বাসা থেকে বের করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। যেকোনো সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এই মর্মে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের আবেদন পাওয়ার পর আমরা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ির মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়াবে এমনটাই চাওয়া সকলের।