পেকুয়ায় বেক্সিমকোর লবণ মিলের কোটি টাকার জমি অবৈধ দখলে !

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২০

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় বেক্সিমকোর মালিকানাধীন লবণ মিলের প্রায় কোটি টাকার জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। বিগত ৩০ বছর ধরে বেক্সিমকোর লবণ মিলের জমিতে অবৈধভাবে দোকান তৈরী করে ভাড়া বাবদ প্রায় ২ কোটির ও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জায়গার কথিত পাহারাদার স্থানীয় মৃত আজিউর রহমানের পরিবার! জানা গেছে, বিগত ১৯৮৪ ইংরেজীর দিকে বেক্সিমকো কোম্পানি লি: তৎকালীন আমলের ২৬ লাখ দিয়ে মগনামার মৌজায় মগনামা লঞ্চঘাট বাস স্টেশনের সাথে লাগোয়া ৪০ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন। এরপর উক্ত জমিতে বেক্সিমকো কোম্পানি লি: কয়েকটি টাকা বিনিয়োগ একটি লবণ মিল স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ ইংরেজীর ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে বে´িকোর লবণ মিলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এরপর বেক্সিমকো কোম্পানি লি: লবণ মিলটি আর সংস্কার করে চালু করেনি। মিলের যন্ত্রপাতি ও মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্টান বেক্সিমকো (বাংলাদেশ এক্সপোর্ট এন্ড ইনপোর্ট কোম্পানি লি:) এর প্রায় কোটি মূল্যমানের লবণ মিলের জমি বিগত ৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে দোকান তৈরী করে ভাড়া দিয়ে প্রায় কোটি হাতিয়ে নিয়েছে মগনামা লঞ্চঘাট এলাকার মৃত আজিউর রহমানের পরিবার। তবে আজিউর রহমানের পরিবারের দাবি, বেক্সিমকো কোম্পানি তাদেরকে উক্ত জায়গা দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই তারা বেক্সিমকোর জায়গায় দোকান তৈরী করে ভাড়া দিয়েছেন। বেক্সিমকো কোম্পানি লিখিতভাবে দেখভাল করার জন্য দায়িত্বে দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে আজিউর রহমানের পুত্র ইব্রাহিম কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বেক্সিমকোর কথিত পাহারাদারের নাম ভাঙিয়ে মূলত আজিউর রহমানের দুই পুত্র ইব্রাহিম ও ফজল করিম বেক্সিমকোর লবণ মিলের জায়গা দখলের জন্য বিভিন্ন ভূঁয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পেকয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট বাস ষ্টেশনের সাথে লাগোয়া বেক্সিকোর লবণ মিলের সামনের অংশে প্রায় ৬টি দোকান তৈরী করে বিগত ৩০ বছর ধরে ভাড়া দিয়ে প্রায় দুই কোটি আত্মসাৎ করেছেন মরহুম আজিউর রহমানের পরিবার। বিগত ৫/৬ বছর পূর্বে আজিউর রহমান মারা যান। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি ও তার পুত্ররা মিলে এসব দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার পুত্র ফজল করিম দোকানের ভাড়ার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। মৃত আজিউর রহমানের ছেলে মো: ইব্রাহিম জানান, তারা বেক্সিমকোর কাছ থেকে দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন। দোকান ভাড়ার টাকা থেকে কক্সবাজারে দায়িত্বরত বেক্সিমকোর এক কর্মকর্তাকে নিয়মিত টাকা দেওয়া হয়। তবে ওই কর্মকর্তার নাম ও পদবী কি জানতে চাইলে ইব্রাহিম জানাতে পারেনি। বর্তমানে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা মো: ওমর আলী সওদাগরের কাছ তেকে ৩০ হাজার টাকা সেলামী নিয়ে বেক্সিমকোর জায়গায় দোকান তৈরী করে ভাড়া দিয়েছেন ফজল করিম। এখইভাবে মগনামা পশ্চিমকূল গ্রামের মো: আনসারের কাছ তেকে ২০ হাজার টাকা সেলামী, কাঞ্চনের নামের একজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা সেলামী, গিয়াসুদ্দিনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা সালামী নিয়ে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। এসব দোকান থেকে প্রতি মাস অন্তর অন্তর ভাড়াও উত্তোলন করছেন ফজল করিম। এভাবে বছরের পর বছর মাসের পর মাস বেক্সিমকোর জায়গায় অবৈধভাবে দোকান তৈরী করে ভাড়া আদায় করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ অব্যাহত রেখেছেন ফজল করিম। এ বিষয়ে ফজল করিমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে যোগাগোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মাসনিকভাবে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে তার পরিবারের লোকজন এ প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে দেয়নি। তাই তার বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। বেক্সিমকোর দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তার কার্যালয় পেকুয়ায় না থাকায় এ বিষয়ে কারো বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানান, দেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ বেক্সিমকোর লবণ মিলের জায়গায় দোকান তৈরী করে বছরের পর বছর ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী আজিউর রহমানের ছেলে ফজল করিমসহ জড়িত অন্যান্যদের কবল থেকে জমি উদ্ধারপূর্বক পুনরায় মিলটি চালু করার জন্য বেক্সিমকোর মালিক বিশিষ্ট শিল্পতি সালমান এফ রহমানের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া।