পুরনো ডায়েরীর একটা পাতা ও স্মৃতিচারণ

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

পুরনো ডায়েরীর একটা পাতা

অনেকদিন পর আজ বাড়ি থেকে আসলাম প্রানোচ্ছল মানুষটার সঙ্গে । তখনো সূর্য পৃথিবীতে তার আলো ছড়িয়ে দেয়নি , ধীরে ধীরে কুয়াশার বুক চিঁরে ভূমিতে পতিত হচ্ছে যখন সহনশীল মানুষটার সাথে স্কুলে দেখা করি । আমার মেয়েটাকে ( ঊর্মি ) দেখার খুব আকুলতা নিয়ে বরাবরের মতোই ব্যর্থতার অনুসন্ধান করতে হলো , ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিলাম তখন ।

প্রাণের সহোদরার কাছে স্বল্প বাক্যে একটা চিরকুট পাঠালাম । জানি তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে নেবে , যাই হোক – সেটা তার ব্যাপার। ঐ মানুষটার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো না আর , করেও লাভ নেই । যা ক্রমশঃ অনিশ্চয়তার দ্বারে মাথা ঠুকছে , তার নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়া কি আদৌ সম্ভব ? না , বোধ হয় কখনোই সম্ভব না , তবুও বোধবৃক্ষে আশার অনুরণনে সম্ভবকে অস্পষ্টভাবে দেখতে পেয়ে অপেক্ষা করার সাহস পাই ।

সহনশীল মানুষটার মন খুব খারাপ দেখলাম , জিজ্ঞেস করতে সাহস পাই নি । আমি কি তাকে কোন কষ্ট দিয়েছি ? দিতেও পারি কারন আমি চরম স্বার্থপর , নোংরা একটা ছেলে । আজ রাত ৯ টায় বিবার ফোন আসার কথা ছিল , আসেনি । মার ফোনও আসেনি । আমি কি ক্রমাগতঃ পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছি ?আমি প্রাণ পরিত্যক্ত , সুখ পরিত্যক্ত , সম্মান পরিত্যক্ত , স্নেহ বিবর্জিত কিন্তু এমন হবার জন্যেই কি আমার জন্ম ? আমি একাই বিবর্জিত হওয়ার যোগ্যতা কুড়িয়েছি ? অবশ্যই না কিন্তু এমন হচ্ছে কেনো ?

তিল তিল করে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে পরিচিত সব মুখ , ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ । আজ প্রাণোচ্ছল মানুষটাকে বলেছি – আমি বোধ হয় নিজেকে ঠকাচ্ছি , সেই সাথে নিষ্কলুষ জন্মদাতা – জন্মদাত্রীদের । আমারও তো ইচ্ছে করে জীবনকে রঙ্গীন করার খবরের রানার হতে ! না , সেই সময় আর নেই । হারিয়ে ফেলেছি সময়ের কড়াল স্রোতে , আমার প্রাণের প্রত্যাবর্তনের প্রহর গুনতে গুনতে ।

তবুও কূলহারা কোন নাবিকের মতো আশায় আছি – আমার স্বপ্ন সুখের দ্বীপ খুঁজে পাবো ।

স্মৃতিচারণ

তোমার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজো তোমার খুনিরা আমাকে রক্তচক্ষু দেখায় । ইদানিং আমি ভয় পাই না , জানো ? কাটায় কাটায় , দেখতে দেখতে কিভাবে পেরিয়ে গেলো আট – আটটা বছর । আজ মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো ওই খুনির সাধারন আদেশে । আমিও বলে দিয়েছি – আমিও কিন্তু খুনি । আমার মাথায়ও খুন চেপে আছে ।

কাকে বলছি এইসব ? শুনছো তুমি ? শুনবে কেনো ? আমি শুনিনি , তুমি শুনবে কেনো ? তুমি অতো দূরে , খুব দূরে … চোখ বুঁজে বুকে হাত রেখে বলো – কোন এক মুহূর্ত তোমাকে মনে পড়েনা আমার ? পারো বলতে যে এই আটটা বছর প্রাণখুলে হেসেছি আমি ? ভেসেছি কোন সুখের স্রোতে ? তোমার মনে পড়ে , আমি আর তুমি নদীর বাঁধে বসে গোমতীর জলের স্ফীত ঢেউয়ে চাঁদ দেখতাম ! তুমি অপলক সেই জলে তাকিয়ে থাকতে আর আমি তাকিয়ে থাকতাম তোমার কাজল চোখে …? মনে পড়ে ?

এই , আমার জন্মদিনে , শীতের চাঁদরে প্যঁচিয়ে স্কুলে সময়ের আগেই এসে ৩ টা রজণী , কয়েকটা গোলাপ (তোমার যতনে বেড়ে উঠা গাছের), আমার প্রিয় বেলী ফুলের মালায় ১০১ টা বেলী আর আমাদের গল্পগুলো যতনে লিখে রাখার জন্যে সুন্দর একটা ডায়েরী দিয়েছিলে , মনে আছে ? আর কদিন পরেই তো তোমার জন্মদিন !!! একটা জন্মদিনও ভালো করে পালন করতে পারি না…কারন জন্মদিনের ৬ দিন পর – ই যে তোমার তিরোঃধানের ক্ষণগুলো হাজির হয় । বলো , আমি কি করে ভালো থাকি ? কি করে হাসি ? আর সবাই আমার হাসি দেখলেও তুমি সে হাসির গভীরে কান্নার রোল টের পাও না ? তোমাকে প্রভাবিত করে না ? বলো ?

 তুমি যখন আমার স্বপ্নে আসো – আমার কান্নার জল কেনো মুছে দাও ? ওরা নাকি আমার চোখের জল দেখে না ! তুমি -ই বলো , ওদের জন্যে আমার চোখের জল ঝরে পড়বার কোন কারন তুমি খুঁজে পাও ? আমি জানি , তুমি কেমন আছো । জানি । আসবো । খুব শিগগির । একটু গুছিয়ে নেই , হুম ?