নগরতলি;রফিকুল ইসলাম রাইসুল

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

কেমন আছো শহর?
এখনো কি ভাঙেনি তোমার অভিমানের প্রহর?
মাত্র আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করো,
অপেক্ষার পরে আর থাকবে না পথ চলার সরু।

কেমন আছো ২ নাম্বার গেইট?
তোমার ল্যাম্পপোস্ট গুলো কি এখনো অনবরত জ্বলে মিটমিট।
উদ্যান ঘেঁষে যুবক,বনিতা’রা কি আরামপ্রদতার সন্ধানে বৈঠক সভায় করে জমাট।
টং ঘরের কড়া লিকারের চায়ে চুমুক দিয়ে তুলে নাকি তৃপ্তির ফিট।

কেমন আছো ক্যাম্পাস?
জ্ঞান জিজ্ঞাসু’রা হৈ-হুল্লোড়ে,
আড্ডা ভরপুর করে রাখছে নাকি তবারক চত্ত্বরের আশপাশ।

কেমন আছো চৌরাস্তার চকবাজার?
ব্যাগ কাঁধে কাঁধে প্রোথিত রত্ন,
মিশ্র ধরণের মানুষের সমাগম,
প্যারেড ময়দানের খেলাপ্রিয় টিম,
তোমার সাথে করে নাকি আলিঙ্গনের ধুম।

কেমন আছো বাতিঘর?
কবি,লেখক,সাংবাদিক এরা কি আজকাল বই হাতে নিয়ে নিয়ে উষ্ণ কফির উত্তাপে ভিড় জমিয়ে বইয়ের দেশে হারিয়ে যায় স্তর স্তর।
বইয়ের বর্ণরা বোধয় করেছে তীব্র অভিমান,
তাদের বলো ক্ষমা চেয়ে শোধ করে নিবো সমান সমান।

কেমন আছো অভয়মিত্র ঘাট?
প্রভাত,বৈকালিকে সাম্পান মাঝিরা শান্তির গানে পাল তুলে করে নাকি স্পৃহার দামাট।

কেমন আছো রেলপথের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়?
এখন স্টেশনে স্টেশনে কোন হুইসেল নেই,
কোন সিগন্যাল নেই,
ধাক্কাধাক্কি করে সিট ধরার কোন তর্কবিতর্ক নেই,
স্টেশনমাস্টার বুঝি সজলমুখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?
বলো তাকে,মৃত্তিকার বুকে পরাগ-রেনু আসুক,
তারপর পুষ্প হাতে অভিবাদন দিয়ে তুল্যমুল্য করবো পুনরায় বিজয়।

কেমন আছো সি আর বি?
বটতলার মাঝে জমে নাকি শিল্পীর কণ্ঠে প্রেম প্রীতি,
লুন্ঠিত মানুষের বুকে ফুটে নাকি করবী।
শহর তোমাকেই অতীব মিস করছি,
তাই এখন শুধু,
স্মৃতিমাখা প্রহরগুলোর হিসেবনিকেশ কষছি।

প্রভু!
তুমি তো শুনতে পাও কভু,
আমাদের মার্জনা করুন,
পৃথিবী থমকে গেছে,মর্মর হয়ে গেছে মানুষের ভেতর,এই শঙ্কিত দৃশ্য যেন করুণ।
পিছুটান-স্বপ্নের শহরে ঈশ্বরী অনুরক্তির ত্রাণ দিন,
পরিতোষে পৃথিবী সুস্থ করুন,
আমাদের প্রতি তর্জনগর্জন হউক হীন।