ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাস করতেন বলেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়

প্রকাশিত: ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, গণপরিষদে সংবিধান পাস করার সময় বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন ধর্ম পবিত্র, একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বক্তব্য এবং তার পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশকে আমরা দেখেছি তা দেখে আমরা বুঝতে পারি, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য খন্দকার ইফতেখার হায়দারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ডঃ কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন ইউজিসি প্রফেসর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্য ড. ফখরুল আলম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী প্রমুখ।

মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন সমাজতন্ত্র, প্রগতি ও সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধু কোন নির্দিষ্ট ভূখ- বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির সমাজতন্ত্রের অন্ধ অনুকরণ করতেন না। তিনি বাঙালী সংস্কৃতি ও সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত সব রকমের শোষণ, বৈষম্য ও কূপম-ূকতাহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এটাই ছিল তার অপরাধ। তাকে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্ম নিরপেক্ষতা হলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি। আর এই জন্যই আজ আমরা বলতে পারি ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার উৎসব সবার।