তিনি যেভাবে করোনাজয়ী হলেন

তিনি যেভাবে করোনাজয়ী হলেন

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

মোঃ কামরুজ্জামান বাবুঃ

 

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার কাজী বাড়ির আমিনুল হক রাসেল করোনাকে জয় করেছেন। তিনি গত ২২ মে নমুনা জমা দিয়েছিলেন এবং পজিটিভ রিপোর্ট আসে ২৭ মে। দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা জমা দেন ১০ জুন, ১৭ জুন নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।

 

তিনি জানান, অনেকেরই করোনা নিয়ে ভীতি রয়েছে, আমারও ছিল; আসলে করোনা নিয়ে এতো ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আর করোনা মানেই মৃত্যু নয়। করোনা মানেই আইসিইউতে ভর্তি নয় (সর্বোচ্চ ৫% রোগীর জন্য আইসিইউ’র প্রয়োজন) ।

 তার লক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার লক্ষণগুলো ছিলো- জ্বর, কাশি(কথা বলতে পারতাম না), জিহবায় স্বাদ চলে যাওয়া, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, হাত প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া করা।  

 তিনি করোনা আক্রান্তদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে যে জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো- মনোবল ধরে রাখা, কাছের মানুষগুলোর সহযোগিতা (ওষুধ আনতে ও বাজার করতে সমস্যায় পড়বেন), আলো-বাতাস প্রবেশ করে এরকম রুমে আইসোলেশনে থাকা ,ডাক্তারের বলে দেওয়া ওষুধ খাওয়া ও নিয়ম মেনে চলা, আলাদা টয়লেট ব্যবহার করা ( সম্ভব না হলে ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি দিয়ে সম্পূর্ণ ওয়াশরুম ধুয়ে ফেলতে হবে) ,সর্বদা গরম পানি বা কুসুম গরম পানি খাওয়া, প্রয়োজনে মাস্ক পড়ে থাকা ।

যখন তার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই, তিনি জানান, আমি ডাক্তারের পরামর্শে যেসব ওষুধ খেয়েছি তা হলো- Tab. Scabo-6 or Tab. Ivera-6 (২টি খালি পেটে) ,Tab. Doxy A (১+০+১); প্রথমটা স্কাবোর সাথে খালি পেটে ,Tab. Montin 10(০+০+১); কাশি থাকলে,Tab. Napa Rapid (২+২+২); জ্বর থাকলে,Tab. Rex (১+০+১),Tab. Zinc B(১+০+১),Oceancal D (১+০+১),Tab. Ceevit (১+১+১), Syp. Suducough (১ চামচ করে তিন বেলা), কাশি থাকলে ।

তিনি আরও জানান, ডাক্তার বারবার একটি বিষয়ের ওপর সতর্ক করেছেন, আর তা হলো শ্বাসকষ্ট হয় কিনা। শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে । প্রয়োজনে ইনহেলার বা অক্সিজেন নিতে হতে পারে কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগতে পারে।

তার করোনা আক্রান্তকালীন সময়ের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আদা, লবঙ্গ, লবণ,এলাচি, রসুন, লেবুমিশ্রিত গরম পানির ভাপ নিতাম, ভাপ নেওয়ার পর সেই পানি দিয়ে গার্গল করতাম ও কিছু পানি খেতাম। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (ডিম,দুধ,মাংস) খেতাম।

তার কাছে আরও জানা যায়, মনোবল ধরে রাখতে নামাজ পড়তাম, বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম, অনলাইনে গেমস খেলতাম।মোটকথা, চার্মিং থাকার জন্য সবই করতাম।সবশেষে আবারও বলতে চাই, করোনা কঠিন কোনো রোগ নয়, করোনা মানেই মৃত্যু নয়। সঠিক নিয়ম ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে ১৪-২১ দিনের মধ্যেই করোনা মুক্ত হওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ।