ডাকাত শামসু’র নেতৃত্বে ইয়াবার আধুনিক শহর সোনাইছড়ির সমিতি ঘোনা

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

উখিয়া প্রতিনিধি :-

উখিয়া-টেকনাফের সিমান্তবর্তী এলাকা মায়ানমার।বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রিত পূর্ববর্তী সময় ধরে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট এলাকা হয়ে প্রতিনিয়ত আসা হয় ইয়াবা।তারই সুত্র ধরে জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি ২নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য শামশুল আলম (প্রকাশঃডাকাত শামসু) সোনাইছড়িতে গড়ে তুলেছে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা।সাধারণ জনগণ মূখ খুললেই নেমে আসে তাদের উপরে অত্যাচার নির্যাতন ও বেকায়দায় মারধরের অভিযোগ। সম্প্রতি উখিয়ার ইয়াবা সম্রাট কুতুপালংয়ের রাজা বকতিয়ার মেম্বার পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার সাথে গা ডাকা দেয়ার চেষ্টায় মগ্ন হয়ে পড়েছে জালিয়াপালংয়ের বিট অফিস পাড়ার শামশু ডাকাত,ফরিদ আলম-মুহিব উল্লাহ সিন্ডিকেটের আলমগীর বর্তমান ইয়াবার ওয়ারেন্ট আসামী উত্তর সোনাইছড়ির নুরুল আমিন(প্রকাশঃবার্মাইয়া আমিন)।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে লকডাউনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের নতুন ব্রীজ সংলগ্ন পুলিশের কড়া নজরদারীতে একটি বাস তল্লাশী চালিয়ে ২০,০০০হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক করে নুরুল আমিনকে। পরে মাদকদ্রব্য আইনে ইয়াবা কারবারী নুরুল আমিনকে চট্টগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করেন দায়িত্বরত প্রশাসন। পরবর্তীতে ইয়াবার গডফাদার যাচাই করার জন্য কর্তব্যরত প্রশাসন আটককৃত নুরুল আমিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে ২৪ঘন্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত,রিমান্ড শেষে উক্ত ইয়াবা গুলো ডাকাত মুফিজ, আলমগীর এবং ফরিদের বলে স্বীকারোক্তিতে স্বীকার করেন। নুরুল আমিন এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে ভূয়া কাগজপত্র বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করে জামিনে মুক্ত করলেও বর্তমানে কোর্টে হাজির না থাকায় ৯মাস ধরে পলাতক এবং তার কোন ছাত্রত্ব নেই বলে জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ সুত্র ধরে এক অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা মুফিজ সিন্ডিকেটের ৮০,০০০হাজার পিস ইয়াবা শহরে চালান করেছে বলে সাধারণ জনতার মুখে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হচ্ছে,তাদের মধ্যে পশ্চিম সোনাইছড়ির মৃত আমির হোছন মিয়াজীর পুত্র ফরিদ আলম(প্রকাশঃ লেইঙ্গা ফরিদ)বিট অফিসপাড়ার মৃত সালেহ আহমদ এর পুত্র শামশুল আলম(প্রকাশঃডাকাত শামশু), উত্তর সোনাইছড়ির মৃত নুর আহমদের পুত্র আলমগীর বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেন বলে জানা যায়। স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবী ইউপি সদস্য ডাকাত শামসু’র ছোট ভাই মানবপাচারের ওয়ারেন্ট আসামী মুফিজ ডাকাত এবং তার বাগিনা ছুরুত আলম সিএনজি ও রিক্সা চালক থেকে কুতুপালং হয়ে ইয়াবা এনে অবৈধ ব্যবসা জগতের সম্রাট হয়েছে,তাদের কারণে এলাকার যুবসমাজ, নাবালক শিশু,আবাল বৃদ্ধের পাশাপাশি ২নং ওয়ার্ডে কিছু নারীরাও পিছিয়ে নেই ইয়াবা ব্যবসায়। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় এক বিধবা মায়ের অনাহারে আহাজারীতে দিন গুনা নাম গোপন রাখা এক বিশেষ ব্যক্তি বলেন সোনাইছড়ির আলমাস খাতুন একজন বিধবা মহিলা।তার ৪মেয়ে দুইপুত্র সন্তানের জননী,বড় ছেলে কালু বিয়ে করে আলাদা সংসার করলেও পুত্র হাছন কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে চলছিল তার অভাবের পুরো সংসার। বিগত ৪বছর আগে সমুদ্র পথ দিয়ে আসা ১লক্ষ ৪০হাজার পিস ইয়াবার চালান পাটুয়ারটেক এসে পৌঁছালে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে আসা র্যাব এবং পুলিশের একটি টিম ইয়াবা সহ আটক করে ৭জনকে।পরবর্তীতে আটককৃত যুবকদের মধ্যে ছিলেন মোঃ হাছনও, স্বীকারোক্তিতে ইয়াবার কতটি চালান বহন করে পাচার করেছে জিজ্ঞেস করা হলে অন্যান্যদের পাশাপাশি মুফিজ সিন্ডিকেটের ৭টি চালান প্রায় ২কোটি টাকার ইয়াবা সমুদ্র পথে চট্টগ্রামের বন্দর মূখে নাম অজানা ব্যক্তির হাতে পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেন।

এলাকার সচেতন মহলের দাবী মাদক মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মুফিজ সিন্ডিকেটের ডাকাত শামসু,আলমগীর,ফরিদ,মুহিব উল্লাহ,ছুরুত আলম এবং নুরুল আমিন কে আইনের আওতায় আনা হলে বেরিয়ে আসবে অজানা সব গোপন তথ্য। ভুক্তভোগী এবং এলাকার সুশীল সমাজের দাবী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থার অবিচল দৃষ্টান্ত স্থাপনে দেশকে মাদক মুক্ত করে একটি সুসংগঠিত সমাজ উপহারের মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবী।