চিরবিদায় নিলেন এন্ড্রু কিশোর

চিরবিদায় নিলেন এন্ড্রু কিশোর

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

নিজিস্ব  প্রতিনিধি : এন্ড্রু কিশোর (১৯৫৫-২০২০) বাংলাদেশের একজন আলোচিত সংগীত শিল্পী। যার কন্ঠের যাদুতে মুখরিত হয়ে আছে বাংলাদেশের চলচিত্র জগত। তিনি বাংলাদেশ সহ অনেক দেশের চলচিত্রে কন্ঠ দিয়েছেন। যে জন্য তাকে প্লেব্যাক সম্রাট বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ চলচিত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি এ পর্যন্ত মোট ৮ বার জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।

কন্ঠ শিল্পী এন্ড্রু কিশোর ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহী জেলাতে জন্মগ্রহণ করেন।

ছোট বেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তিনি ছিলেন ভিষন দূর্বল। প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে; মেইল ট্রেন-এ আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে।
১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি তাকে।

৯০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার।

তার অসখ্য পরিচিত গান গুলোর মধ্যে রয়েছে, জীবনের গল্প, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার বাবার মুখে প্রথম যে দিন শুনেছিলাম গান, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প,বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়াছে, পরেনা চোখের পলক, সবাইতো ভালোবাসা চায় সহ আরো অনেক জনপ্রিয় গানের কন্ঠ দিয়েছেন এই প্লেব্যাক সম্রাট।

বাংলাদেশের সংগীত জগতের এই নক্ষত্র গত নয় মাস ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন ।

বিদেশ থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে ফিরেও ছিলেন রাজশাহীতে তার চিকিৎসক বোনের বাড়িতে। সেখানে ৬ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় এই কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ খান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্বরণীয় হয়ে থাকবেন।

এদিকে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে তার অসংখ্য ও অগনিত ভক্ত হৃদয়ে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।