ঘাতক করোনা; রফিকুল ইসলাম রাইসুল

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

বুকে ভেদ করা নিষ্ঠুর করোনা,
এমন নির্দয় যন্ত্রণায় আর মেরোনা।
পৃথিবী থমকে গেছে,
মানুষ লুন্ঠনে হতভম্ব হয়ে গেছে।

সবকটা ঘর বন্দি,
মিনতি করছি তুমিও করে নাও সুন্দর সন্ধি।
ক্ষুধার জ্বালায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে গরীব!
লজ্জা কাটিয়ে বলে উঠতে পারছে না,
মুখ গুটিয়ে এক কোণে রয়েছে নীরব।

মানুষজন,প্রিয়জন এক এক করে একা হয়ে গেছে,
কোথাও আড্ডা নেই,মন ভরে প্রেম-প্রীতি দিবে তা নেই।
সঙ্গ দিলেই তোমার আক্রমণ,
তোমার এতো শক্তি,
কেউ কি তোমায় করতে পারবে না দমন?
তোমার এতো ক্ষমতা?
চারিদেয়ালে আটকে আছে,
রাতদিন পাখির মতো ঘুরে বেড়ানো বনিতা।

কারো মন ভালো নেই,
সবই চাপাকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চুপটি করে হতাশ হয়ে পড়ে আছে।
কারো মনে আনন্দ নেই,
মৃত্যুর ধকলে বলবান সাহসীও আজ দুর্বলচিত্তে অকেজো হয়ে গেছে।
চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা উদ্যমী প্রেমিকেরও কোন অস্তিত্ব নেই,
এখন রক্তাক্ত গোলাপ নিয়ে বখাটে প্রেমিকের মতো ভিড় করে না।

খুনী করোনা,
বিশাল দাম্ভিক তুমি,
গঞ্জ,শহর,নগর অটল সন্দিহানে গেলো থামি।
কবি হয়ে গেছে শব্দহীন,
লেখক হয়ে গেছে বোকা,
গান হয়ে গেছে শিল্পীর মর্ম ধোঁকা।
নির্দয়া করোনা,
করুণায় হলেও একটু মানবিক হও।

স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় কাঁদছে,
পাঠার্থী নেই,হৈ-হুল্লোড় নেই।
কেমন জানি ঘন নিস্তব্ধ।
শিষ্যের শ্রদ্ধা ঘাটতিতে শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে ক্রুব্ধ।
এমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জীবন আর কতোদিন,
আসবেনা কি উৎকৃষ্ট সুদিন?

এ কেমন কান্না,
এ কেমন বেদনা!
এ কেমন সারি সারি মৃত্যুর মিছিল,
এ কেমন ঘরবন্দি বিবর্ণ জীবন!
প্রিয়জনের নিঃসঙ্গতা,
এ কেমন ভয়াবহ মর্মান্তিক বিদায়?
বুকের কপাটে পীড়ায় আঁতকিয়ে ওঠে,
হৃদয় হয়ে যায় নিথর।

উপরওয়ালা বুঝি তীব্র অভিমান করেছে,
তা না হলে,
কেনই বা এমন দুখঃগ্রস্থ গহ্বরে আটকে দিয়েছে?
হে মুহাম্মাদের রব,
আমাদের অপরাধ মার্জনা করুন,
নারকীয় ভূমিতে স্বর্গীয় কল্যাণ দিন।
বান্দা তোমার,পৃথিবীর তোমার,সৃষ্টি তোমার, ব্যথা আমাদের।
একমাত্র তোমার কাছেই ক্ষমা মর্জি,
আমরা বিশাল পাপীদের দুঃখ তুলে নাও,
প্রভু! করছি বিনয়ের অার্জি।
মানুষে মানুষে পুনরায় অবিমিশ্র সম্পর্ক গড়ুক,
পৃথিবীতে সুখের হাসনাহেনা ফুটুক।
অনুনয় করছি,একটু মানবিক হঊন,
দুর্দশা থেকে আমাদের দিন পরিত্রাণ।