কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুহার ৩৪ শতাংশ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুহার ৩৪ শতাংশ

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

মোঃ শামীম আহসান, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ৩ রা জুন থেকে এই পর্যন্ত আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার রোগীর সংখ্যা ৯৬ জন। তাদের মধ্যে মারা গিয়েছে ৩৫ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছে ১৬ জন আর বাকিরা সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

এই হাসপাতলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে বর্তমানে ৩৯ জন। মোট ভর্তি হওয়ার রোগীর সংখ্যা এই ওয়ার্ডে ৬৭৪ জন পজিটিভ রোগী। বর্তমানে ৫৩ জন মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা, বর্তমানে ৪১২ জন, আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে ৮ জন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীরা চিকিৎসা পেলেও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেনা আইসিইউতে যাওয়া রোগীরা। সেখানে ডাক্তার-নার্সরা রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিচ্ছে না বলে জানা যায়। এমন ঘটনাও সচরাচর ঘটে যাচ্ছে যে, রোগী দেখে তারা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

সেই ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনরা নিজে অক্সিজেন মাস্ক লাগাতে হচ্ছে। অনেক অনুরোধ করেও তাদেরকে দিয়ে কোনো কাজ করানো তো যাচ্ছে না।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের পুত্র শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, গত ১৪ জুন তার বাবা শফিকুর রহমান করোনা পজিটিভ নিয়ে কুমিল্লা হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন এবং ভর্তি হওয়ার ১ দিন পর তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর সেখানকার ডাক্তার-নার্সরা যথারীতি পালিয়ে যায়।

তাদেরকে অনেক বলেও কোনো কাজ করানো যাচ্ছে না। তিনি নিজে তার বাবাকে অক্সিজেন ও মাস্ক পড়িয়েছেন। তাকে অবশ্য সেখানে থাকতেও দেয়া হয়নি। আইসিইউ থেকে বের করে দেয়া হয়।

তার বাবার অক্সিজেন মাস্ক খুলে গিয়ে মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন ডাক্তার নার্স উপস্থিত না থাকার কারণে তার বাবাকে আইসিইউ -তে সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার মুজিবুর রহমান জানান, যারা আইসিইউতে দায়িত্ব পালন করছে -তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সিসি ক্যামেরা লাগানোর চেষ্টা করছি খুব শিগগির কিন্তু কেউ ভয়ে কাজ করতে চায় না। সিসি ক্যামেরা থাকলে বিষয়টি ভালভাবে মনিটর করা যেত। আই সি ইউ তে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।