কুমিল্লায় একজন ব্যাংকার এর করোনা জয়ের গল্প

কুমিল্লায় একজন ব্যাংকার এর করোনা জয়ের গল্প

প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

মোঃ কামরুজ্জামান বাবু, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

“করোনাকে ভয় নয়, উপভোগ করুন “- এমনভাবেই বললেন অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল ইসলাম।

তিনি তার করোনাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সময় বলেন, ” আমার করোনাকালীন অভিজ্ঞতাগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যাতে সবার সচেতনতা ও সাহস বৃদ্ধি পায়। ”

তিনি আরও বলেন, ” প্রথমে বলতে চাই সকল রোগ ব্যাধি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। কোন রোগেরই নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও বেঁচে থাকতে পারেন যদি না ঐ রোগেই আপনার মৃত্যু লিখা থাকে; আবার একটি পিঁপড়ার কামড়েও মরতে পারেন যদি ঐভাবে আপনার মৃত্যু নির্ধারিত থাকে। তাই রোগকে নয় বরং রোগের মালিককে ভয় করুন।

গত ২০ জুন রাতে আমার জ্বর আসে সাথে শরীর দুর্বল এবং ব্যথা অনুভব করি। জ্বর খুব বেশি না থাকলেও শাখায় একজন অফিসার করোনা পজিটিভ থাকায় ২৪ তারিখ স্যাম্পল দেই। ২৮ তারিখ সিভিল সার্জন অফিস থেকে ফোন দিয়ে আমায় জানায় যে, আমার করোনা পজিটিভ। ছোট্ট একটা থাক্কা গেয়েছিলাম; আর খাওয়াটাও স্বাভাবিক! কিন্তু ভয় পাইনি। আমি স্বাভাবিক ছিলাম আর আল্লাহকে ডাকছিলাম, নিজেকে সান্তনা দিলাম -যদি করোনায় মরণ লিখা থাকে তবে মারা যাব। আর যদি হায়াত থাকে তবে কিচ্ছু হবে না। আল্লাহর উপর ভরসা করে চিকিৎসা শুরু করলাম এবং নিয়মগুলো বেশি করে মানতে লাগলাম।

শরীফুল ইসলাম বলেন, ” আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎকন্ঠা, দু’আ এবং ভালবাসায় ১১ জুলাই করোনা থেকে মুক্তি পাই। ”

করোনাকে জয় করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে তিনি কি কি করেছেন জানতে চাইলে জানান, ” যেহেতু করোনার মৌসুম চলছে, তাই জ্বর আসার পর থেকেই আমার করোনা হয়েছে মনে করে প্রথম দিন থেকেই করোনার ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু করেছিলাম। আমার স্ত্রীর কড়া শাসন (ভালবাসা) আর সেবায় ঘরোয়া চিকিৎসায় একচুলও ফাঁকি দিতে পারিনি। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩-৪ বার আদা, এলাচ, লং, গোলমরিচ, তেজপাতাসহ বিভিন্ন মসলা সিদ্ধ গরম পানির ভাপ নেওয়া এবং সেই পানি সারা দিন একটু পরপর চায়ের মত পান করা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এবং রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে পানি পান করা, কালোজিরা আর মধু খাওয়া, তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া, রাতে গরম দুধ খাওয়া, সারা দিনে প্রচুর পরিমাণে মাছ, ডিম সিদ্ধ (২টা), ফল, আর স্বাভাবিক খাবার দ্বিগুণ খেয়েছি। ”

এইবার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কথা হলে বলেন, “রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত ডাঃ এনামুল হক এর পরামর্শে নাপা এক্সটেন্ড তিন বেলা, মোনাস ১০ রাতে একটা, জিংক বি দু’বেলা, সিভিট দু’বেলা খেয়েছি। পজিটিভ আসার পর এন্টিবায়োটিক এ্যাজিন ৫০০ দু’বেলা, ফেক্সো ১২০ একবেলা, ইভেরা ১২ খালি পেটে সপ্তাহে দু’টা শুরু করলাম। নিয়মিত অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন এবং পালস মেপেছি, দুপুর বেলায় শারিরীক ব্যায়াম করেছি। ”

করোনাকালীন অভিজ্ঞতা/অনুভূতি নিয়ে বলেন, ” যদি ভয়কে জয় করা যায় তাহলে করোনা স্বাভাবিক সর্দি জ্বরের মতোই। আর যদি ভয় এবং আতঙ্ক পেয়ে বসে তবে করোনা ক্যান্সারের চেয়েও মারাত্মক- আপনাকে মৃত্যুর স্বাদ নেওয়াবে। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন, ভয়কে ভুলে যেতে এবং স্বাভাবিক থাকতে। আমার কিছুটা গলা ব্যথা ছিল, ৩০ জুন থেকে খাবারের স্বাদ এবং ঘ্রাণ শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম, নাকের সামনে আতর/পারফিউম ধরলেও বিন্দুমাত্র ঘ্রাণ পাইনি। কিছুটা শ্বাসকষ্ট ছিল, তবে কাশিটা আমার মারাত্মক ছিল। যার কারণে আমি অনেকের ফোন ধরতে পারিনি। ফোনে একটু কথা বললেই প্রচুর কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হতো। আমার অক্সিজেন ৯৫ এর নিচে নামেনি। ৪ জুলাই ঘ্রাণ এবং খাবারের স্বাদ ফিরে পেয়েছিলাম। ”

করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে আপনার কি পরামর্শ,এই বিষয়ে তিনি জানান, ” আপনার করোনার উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক এই সময়ে নিয়মিত উপরোক্ত ঘরোয়া চিকিৎসাগুলো করুন। স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ মেনে চলুন। আর যদি করোনার উপসর্গ দেখা দেয় বা আক্রান্ত হন তবে মোটেও ভয় পাবেন না। আলহামদুলিল্লাহ বলে চিকিৎসা শুরু করুন আর করোনাকে উপভোগ করুন। প্রচুর প্রার্থনা করুন। মনে রাখবেন, যদি এই করোনায় আপনার মৃত্যু নির্ধারিত থাকে আপনি শহিদের মর্যাদা পাবেন তাহলে ভয় কী! আমরা তো শহিদ হতেই চাই। প্রচুর ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান, যে সকল খাবারে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ায় তা বেশি বেশি খান। ইনশাআল্লাহ, কিচ্ছু হবে না। “