করোনা! অদ্ভুত জাতির বেহাল দশা

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

অর্থ সম্পদ প্রাচুর্য্যে ভরা বিশ্বে আজ জাতি বড় অসহায়!
প্রাচীনতম পৃথিবী পাড়ি দিয়ে ধাপে ধাপে আধুনিকায়নে পা রেখেছে বিশ্বের গোটা জাতি,জয় করেছে এভারেস্ট,পা রেখেছে চাঁদের দেশে,এরই বটমূলে বর্ষবরণে জন্ম দিয়েছে নৃত্যনতুন সভ্যতায়।কিন্তু বীরত্বের নেশায় পারিনা আজ আত্ন আধুনিকায়ন ছেড়ে বিশ্বে মহামারী করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে বাড়াতে পারিনা নিজেদের সচেতনতামূলক তৎপরতা,মনে করতে বসেছি করোনা আমাদের নৃত্যনতুন কোন প্রিয়জন। কারণে অকারণে মানছি না কোন বাঁধা নিষেধ, কোন এক মহান আদর্শের মতোই লালন-পালন করে চলেছি করোনা–ভাবতে বসেছি তুমি মোর জীবনের ললনা।

সরকারী নির্দেশনাঃ
————————-
ফোরকানিয়া,মসজিদ-মক্তব,স্কুল-কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যস্ততম অফিস আদালতের আঙ্গিনা আজ সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে সরকার,কেননা, সরকারী দায় দায়িত্ব/ দায়বদ্ধতার আবশ্যকতায় কাউকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে চাই না, আক্রান্ত এক মৃত্যুতে মৃত্যুর সারি পরিণত হবে মিছিলে।তাই গুণীজনের কন্ঠে দেশ জাতি ও সমাজের অফার সম্ভাবনাময় সফল শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি বলেছেনঃ এক বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ থাকলে পড়াশোনার তেমন কোন ক্ষতি হবেনা কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা ছড়িয়ে গেলে অনেক মায়ের বুক খালি হবে।ছেলেমেয়েরা এক বছর পড়াশোনা না করলে কোন মেধাশক্তি লোভ পাবেনা কিন্তু একজন শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার শূন্যতা কখনো পূর্ণ হবেনা।আক্রান্তের পরিবার সন্তান হারা মহীয়সী নারী সেই শোক সইতে পারবেনা।পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ইচ্ছে উপায় দুটোই থাকতে মৃত্যুর সারিতে আবদ্ধ হতে পারিনা।

What is lock down?
—————————–
আসলে লক ডাউন কী মানুষ জানেনই না! দোকানপাট, বাজার কারখানায় মানুষ প্রতিনিয়ত প্রয়োজন ছাড়াই বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কান্ডহীন জ্ঞানপাপীদের মতোই,ভীড় জমাচ্ছে কথোপকথনে বাঁচালপূর্ণতায়।আফসোস-আক্ষেপের শেষ নেই সমাজের জ্ঞানীগুনী হীনমনা মানুষের।
জনজীবন বিপর্যস্ত করার নিয়ম একটাই আমরা বীরের জাতি,এতে যে নিজের ক্ষতি নিজেই করতেছি অনেকেই আড় করতে পারেনা।
সমাজে অনেকে আছে সারাদিন লক ডাউনের কথা বলে সারাক্ষণ বাড়ি ঘরে থেকে সন্ধ্যাবেলায় পুত পাথ লুটপাটের দোকানে মেতে উঠে লাল চা’য়ের আড্ডায়, একে বলা যাবেনা কী-
“নিজের চোখে দিয়ে কাজল নিজের রূপে নিজেই পাগল”এতে কেউ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোন অবকাশ নেই এখানে প্রয়োজন পড়ে আমাদের মনমানসিকতা আর পরের বেলায় আইন মান্য করার জোর দাবী আর নিজের বেলায় বেআইনি।
বিষয়টা প্রতিনিয়ত কেমন জানি আমার মনে হয় “দুচোখ ভরা জলে এক চক্ষুর রক্তক্ষরণের মতোই”
লক ডাউনে অনেকে আছেন কোয়ারান্টাইনে আবার কেউ আছেন আইসোলেশনে কেউ কি একটি বার তাদের শরীরের অবস্থার বিষয়টি জানতে চেয়েছেন? যদিওবা জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই লক ডাউন মেনে চলার প্রয়োজন পড়ে।অন্যথায় বাড়ি থেকে বের হবেন কী হবেন না আপনার বিষয়।তবে আপনার নিজের বেইশ্যাগীরিতে আমাদের সহিদ করবেন না।
লক ডাউন মেনে চলার সরকারী নির্দেশনা মান্য করার প্রয়োজন পড়ে সর্বশেষ ধাপে,কিন্তু কেন? আমাদের জীবনের মায়া কী একটুও নেই,এমনি কি সস্তা আমাদের জীবন! তাই করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই সামলাতে হবে।তাই নিজের মধ্যে তৈরী করুন অন্যকে বাঁচাতে নয় নিজে নিজেকেই বাঁচাতে অবলম্বন করি কোয়ারান্টাইন-লক ডাউন।
দেশে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ পেরিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা লাখ পেরোবেই কিন্তু যতক্ষণ নিজের পরিবারের কেউ আক্রান্ত হবেনা ততক্ষণে আমরা কেউ সচেতন হবোই না! আসুন সবাই মিলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজে এবং নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে মেনে চলি লক ডাউন।কারণ, পরিবার আমাদের সম্পদ,মা বাবা আমাদের পৃথিবী দেখানোর অমূল্য রতন।
#স্বাস্থ্যসেবা/ স্বাস্থ্যখাতঃ
——————————–
দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আজ অবধি ৫০ জনেরও বেশি ডাক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
এই জাতি এখনও ভাবেননি তারা কি হারিয়েছে,আমরা মনে করি আমাদের সেবা দেওয়া চিকিৎসকের কোন রোগব্যাধি নেই কিন্তু আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।তারাও মানুষ তারাও মানবিক এক স্বাস্থ্যকর্মী।সদয় হোন তাদের প্রতি, পরিচয় দিন বীরত্বের। করোনা একটি সাধারণ ভাইরাস মনে করলেও আসলে করোনা কোন সাধারণ ভাইরাস নয়,অনেকেই বলতে দেখেছি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাস্থ্যখাতে কোন কিছুর সংকট নেই,এটা সাধারণ কোন বিষয়ও নয়,আমরা এমন এক জাতি কেউ মারা গেলে তাকে নিয়েও হাসি ঠাট্টা করি,তাই বলা চলে অদ্ভুত জাতির বেহাল দশা, জাতি সংকট, সংস্কৃতি ও অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই আবারও সুন্দর সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধময় নতুন পৃথিবীর দেখা পাবো ইনশাল্লাহ।
সরকারী বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরঃ
মাঠে দায়িত্বরত পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কেন এত আহাজারি, আমরা কী বুঝিনা আমাদের সেবায় তাদের আর্তনাদ,তাদের কঠোরতা,তাদের পানিশমেন্ট।তাদেরও আজ আমাদের ঘরে রাখতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১০%।মৃত্যু হয়েছে দশের অধিক,মানুষকে ঘরে রাখতে আর্মি,পুলিশ,মিডিয়ার কর্মীরাও আজ অনেকে করোনায় আক্রান্ত।আসুন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি।বৈশ্বিক এই দূর্যোগে আমরা হারিয়েছি অনেক কাছের মানুষ, আত্মীয়স্বজন, মহৎ ব্যক্তিত্ব এবং শত গুণীজন আর প্রিয়জন।এ পরিস্থিতি থেকেই আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ন্যায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করে দুনিয়াবী ঝামেলা মুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার।

#জনসেবায়_মানবিক_শেখ_হাসিনাঃ
———————————————
বর্তমান মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সবচেয়ে অসহায় মহীয়সী নারীর নাম দেশরত্ন শেখ হাসিনা।কারণ, আমরা যেখানে নিজে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে পারিনা,নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনা সেখানে প্রায় ১৮কোটি মানুষের নিরাপত্তা, দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমৃদ্ধি,হতদরিদ্র মানুষের সাহায্য প্রদান, শেষার্ধে বাঙালির জনজীবনের প্রত্যেকটি পরতে পরতে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল চিন্তা চেতনা ও সুনিপুণ নেতৃত্বে প্রমাণ করতে চলেছেন দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে। তাই এগিয়ে আসুন মানব সমাজের মানব সেবায়,করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দায়িত্বশীল আচরণ করুন!
এগিয়ে আসুন দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করুন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন,

করোনা নিয়ে আমার পরিবারের সামান্য দৃশ্য, উৎসব বলেন আর উৎসর্গ বলেন যা-ই বলেনঃ
—————————————————————-
চলমান মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে
পাড়া মহল্লার মসজিদ মাদ্রাসা স্কুল প্রাঙ্গনেতরল স্প্রে ছিটানো এবং নিজ তহবিল হতে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ তৎপরতায় শুরু থেকেই আপাদমস্তক এক মানবিক ছাত্রনেতা হিসেবে মাঠে ময়দানে করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছিলাম।
হঠাৎ ছাত্রশিবিরের দূর্বৃত্তের এক ঝড়ে বাঁধাগ্রস্থ হয়,সন্ত্রাসীরা হানা দেয় বাড়িতে,মারধর ও আঘাতপ্রাপ্ত হয় আমার মা ও মেজ ভাই,পুলিশ ধরে নিয়ে যায় আমার আহত ভাইকে,ঘটনাস্থলেই মৃত্যুরকুলে ঢলে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত আমার মা জননী।তন্মধ্যে আমি এটাই বলতে চাই যে এলাকার বিপর্যস্ত জনজীবনে দুর্ভোগ নিরসনে সাধ্যানুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াতে মা হারিয়ে আজ আমি নিজেই অসহায়।যেখানে নিজের কোন স্বার্থ ছিলো না।
ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন
সবাইকে ধন্যবাদ!

লেখক:-
নুরুল আবছার নান্নু
সাবেক সভাপতি,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,জালিয়াপালং ইউনিয়ন শাখা।
সাধারণ সম্পাদকঃ
সোনাইছড়ি বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
রেজিষ্ট্রেশনঃ নং-১৩০৪।