করোনায় মৃতদের দাফনে যুবকদের ভূমিকা

করোনায় মৃতদের দাফনে যুবকদের ভূমিকা

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

আশফাউর রহমান, মুরাদনগর (বাঙ্গরা) প্রতিনিধিঃ

দিনদিন বেড়েই চলছে কুমিল্লায় করোনার প্রকোপ। জেলায় এপর্যন্ত মোট আক্রান্ত এক হাজার ৫১৪ জন এবং মারা গেছেন ৪৫ জন।

এসময় যেখানে আপন আত্মীয়রাই কাছে যেতে চায়না নিতে চায়না কোনো খবর। রোগীর শ্বাস কষ্ট বাড়ার সাথে সাথে পালিয়েগেছে কত রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় তার অসংখ্য নজির ইতি মধ্যে ঘটেছে। ঠিক এই মুহুর্তে করোনায় মৃতদের দাফনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার তিনজন তরুণের একটি টিম। নিজের জীবনের কথা না ভেবে সকল ভয়কে জয় করে এগিয়ে এসেছে তারা কোরোনা রোগীর মৃতদেহ দাফনে তাদের এই কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবিদার। এই তিন জনের টিমটি হচ্ছে, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু,উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য লিটন সরকার ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউসার অনিক। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ জেলা জুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কুমিল্লা শাখাও দাফন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন,আমরা রাজনীতি করি। মানুষের পাশে যদি দাঁড়াতে না পারি তাহলে এই রাজনীতির মানে কি? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা ১২জনের টিম কাজ করছি। উপজেলায়ও আমরা টিম করার চিন্তা করছি। এই পর্যন্ত ১০জনের লাশ দাফন করেছি।

উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য লিটন সরকার বলেন,আমরা চারজনের লাশ দাফন করেছি। তার মধ্যে মঙ্গলবার এক সনাতন ধর্মের ব্যক্তির লাশ তার ধর্মমতে দাহ করেছি। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। তবে তার বিদায়টা যেন সম্মানের হয় সেই চেষ্টা করছি।

উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউসার অনিক বলেন, আমরা নয়জনের লাশ দাফন করেছি। অনেক মানুষ দাফনের বিষয়টি নিয়ে ভয় পেলেও করোনায় তা আরও বেড়ে গেছে। সন্তানে লাশ দেখতে মা-বাবা আসেনি,সেই ব্যক্তির লাশও দাফন করেছি। আমরা মনে করি,এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। মানুষের সেবা করতেই রাজনীতিতে এসেছি।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কুমিল্লা শাখার দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক শ্যামল আতিক বলেন,আমরা ছয়জনের লাশ দাফন করেছি। সদস্যদের চাঁদায় এই কার্যক্রম চলে। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন কাজ করা হয়। আমাদের বিভিন্ন ধর্মমতের লোকদের দাফনের টিম রয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন,করোনায় যেখানে অনেকে স্বজনকে ফেলে যাচ্ছেন। লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে আসছেন না সেখানে তরুণদের এই উদ্যোগ আমাদের আশার আলো দেখায়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হওয়া প্রয়োজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তাদের এমন কর্মকান্ড চলমান থাকলে হয়তো করোনা আক্রান্ত রোগীর মনেও আশার দানা বাদবে। হয়তো একটি রোগী ভাবতে পারবে আমি একা নই আমার জন্য পুরো টিম আছে। তাদের এই কর্মকান্ড এগিয়ে যাক এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।