করোনার ভূয়া সনদপত্র মিলে স্বল্প খরচেই

করোনার ভূয়া সনদপত্র মিলে স্বল্প খরচেই

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

সারাবিশ্বে যখন করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ও তার প্রাদূর্ভাবে ক্রমশ বিপর্যস্ত, সেই মুহূর্তে যখন শুনতে পাওয়া যায় করোনার সার্টিফিকেট টাকার বিনিময়ে পজিটিভ, নেগেটিভ ভুয়া সনদ সরবরাহকারীদের আবির্ভাব ঘটেছে,সেটা নিতান্তই পরিতাপের বিষয়।

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর সদস্যরা ভূয়া সনদ সরবরাহকারীদের মধ্যে চারজন সদস্যকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন ফজলুল হক, মোঃ শরীফ হোসেন, মোহাম্মদ জামশেদ ও মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ করোনার সনদপত্র, কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং স্ক্যানার জব্দ করেন।

যে সকল ক্রেতারা ভুয়া নেগেটিভ সনদ কিনে কর্মক্ষেত্রে যোগদানসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করার জন্য এই সনদ ব্যবহার করেছিল, সেখানে অন্যেরা আবার ভুয়া পজিটিভ সনদ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ছুটি কিংবা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায় করার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান অভিযানে থাকা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।

রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন এর সূত্র মোতাবেক, সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়া হলেও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই প্রতারক চক্রের আশ্রয় নেয়। আদতে করোনা পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া নেগেটিভ সনদপত্র গ্রহণ করে তারা কাজে যোগদানসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে বেরিয়েছেন।

আবার অনেকেই সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা গ্রহণের জন্য ভুয়া সনদপত্র নিয়ে সাহায্য সহযোগিতার জন্য সনদ দেখিয়ে যাচ্ছেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করোনার ভুয়া সনদ পত্রের রমরমা ব্যবসার তথ্য জানতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। মাত্র পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রাহকের চাহিদা মতো সনদ সরবরাহ করা হতো চক্রটির মাধ্যমে।

এই ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার জন্য তারা হাসপাতালে আসা রোগীদের টার্গেট করে তৎপরতা চালাচ্ছিল। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিবুল হাসান জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে স্যাম্পল দিতে এসেছেন – এমন মানুষকে প্ররোচিত করে ভূয়া সনদপত্র সরবরাহ করে যাচ্ছিল চক্রটি।

এখন পর্যন্ত চক্রটি ১৫০ থেকে ২০০ টি ভূয়া সনদপত্র বিক্রি করেছে বলে জানা যায়। এসব সনদপত্রে বিভিন্ন হাসপাতালের নাম ব্যবহার করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন হাসপাতালের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।