এক মানবতার গল্প - মোঃ আমানউল্লাহ

এক মানবতার গল্প – মোঃ আমানউল্লাহ

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

রাকিব ও রায়ান দুই ভাই। রাকিবের বয়স ১৪ বছর আর রায়ানের বয়স ৯ বছর। পড়ালেখার জন্য রাকিব থাকে বাইরে। ছুটিতে বাড়ি এলে রাকিব রায়ানের সঙ্গে মেতে ওঠে দুষ্টুমি আর খুনসুটিতে। মাথায় টালা দেওয়া, গালকাটা, ভেংচি কাটা এবং ছোটজনের চোখের জল।

মাঝেমধ্যে মা রেগে গিয়ে খুন্তি হাতে বড় ছেলে রাকিবকে মারতে এলে রায়ান তার মায়ের হাত-পা চেপে ধরে। রায়ানের চোখে জল তারপরও যেনো বড় ভাই মার না খায়। করোনাভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুই ভাইয়ের সারা দিন-রাত এভাবেই কেটে যায়।

বাবা-মা- দাদিসহ পাঁচজনের পরিবার তাদের। প্রতিদিন বেলা ২টা ৩০ মিনিটে টেলিভিশনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা আপডেট শুনতে ও দেখতে আগ্রহ নিয়ে বসে দুই ভাই। আর দাদি বলেন ” কিরে রাকিব, আজ কি বাড়ছে না কমছে?” রাকিব উত্তর দেয়, ” আজ আগের দিন থেকে বেশি।” দাদি চলে যান তাঁর ঘরে।

যেহেতু দিনটি রোজার দিন তাই রাকিব রায়ানের মা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ইফতারের আয়োজনে। আর রাকিব রায়ানের চলে আবার দুষ্টুমি। রাকিবের বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

ইফতারি শেষ করে দুই ভাই পড়তে চলে গেলেন। ইফতারি করতে করতে বাবা রাকিব ও রায়ান কে জিজ্ঞেস করলেন, ” আর কয়দিন পরে তে ইদ, ইদের তোমরা কি কি কিনবে।” দুই ভাই কিছু বললো না। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর রাকিব তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, ” আচ্ছা বাবা, সরকার, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ধনী মানুষ এত্ত এত্ত সব দান করছে, ত্রাণ দিচ্ছে, তবু তো অনেক মানুষ খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। “বাবা হুম বলে আর কিছু বললেন না। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলে রায়ান বলল, ” আচ্ছা বাবা, আমাদের তুমি কি কি কিনে দিবে?” বাবা হাসি দিয়ে বললেন, ” কেনো, এই ঈদে পাঞ্জাবি, পায়জামা, আর জুতা।” ” কেনো আরো কিছু লাগবে?” দুই ভাই কিছু না বলে চলে গেলো তাদের রুমে।

কিছুক্ষণ পর দুই ভাই তাদের গত ঈদের পাঞ্জাবি-পায়জামা নিয়ে তাদের বাবার সামনে গেলো। রাকিব বললো,” বাবার আমাদের তো পাঞ্জাবি- পায়জামা আছে। তাই আর কিনতে হবে না।” বাবা বললেন, ” এগুলো তো গত ঈদের?” রায়ান বললো, ” কিন্তু এখনও নতুন রয়েছে আব্বু।” তাদের বাবা বললো,” আচ্ছা বুঝলাম, তাহলে তোমরা কি করতে চাও?” রাকিব বললো,” আচ্ছা বাবা আমাদের মার্কেটিং -এর জন্য বাজেট কত?” বাবা হেঁসে হেঁসে বললেন, ” কেনো, পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা।” রাকিব তখন বলেলো, ” তাহলে চলেন আমাদের মার্কেটিং -এর টাকাটা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়ে দেই। যাদের খাওয়া নেই, তাদের একটু তো সাহায্য হবে?”

বাবা নীরব হয়ে জানালার দিকে তাকালেন। নিজের ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ল। কেরানি বাবার ছয় সন্তানসহ আটজনের পরিবারে প্রতি ঈদে প্রত্যেকের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা হতো না। বাবার চোখে আনন্দের অশ্রু।

পরদিন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাকিব ও রায়ান ভ্রাতৃদ্বয় ঈদের নতুন কাপড় কেনার টাকা তুলে দিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।হয়ত তাদের এবারের ঈদে নতুন জামা কিনা হলো না কিন্তু কিছু আসহায় মানুষের পেটে খাবার পড়লো।