একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন বিত্তশালীরা

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: পুরো বিশ্বই টালমাটাল মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গত দুইমাসে অনেকই এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এরই মধ্যে গত কয়েকদিনে দেশে একের পর এক বিত্তশালীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে সংক্রমিত হয়ে একজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

এ নিয়ে বিশেষ আশঙ্কার কারণ হল, তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এর নিদারুণ প্রভাব পড়তে পারে। তাতে করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কর্মসংস্থানের জায়গাটি আরো বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

সস্ত্রীক আক্রান্ত মঞ্জুর এলাহী

দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে গতকাল। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তার তার স্ত্রী অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুরও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মঞ্জুর এলাহী বাসায় চিকিৎসা নিলেও স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছেন।

সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান এপেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। ৭৮ বছর বয়সী এ শিল্পপতি বর্তমানে গ্রুপের চেয়ারম্যান, যার অধীনে বর্তমানে ১১টি কোম্পানি রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ছিলেন মঞ্জুর এলাহী। তার স্ত্রী শিক্ষকতার পাশাপাশি সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত আছেন।

‘প্লাজমা’ নিয়েছেন এ কে আজাদ

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ এখন বেশ খানিকটা সুস্থ আছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল তাকে ‘প্লাজমা থেরাপি’ দেওয়া হয়। করোনাভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা কারো রক্ত থেতে প্লাজমা নিয়ে সেটা পুশ করা হয় করোনায় আক্রান্ত হওয়া রোগীর শরীরে, এটাই প্লাজমা থেরাপি।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্লাজমা দেওয়ার পর তিনি সুস্থ বোধ করায় তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই আইসোলেশনে থেকে বাকি চিকিৎসা নেবেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ কে আজাদের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ নজরুল।

মারা গেছেন এস আলম গ্রুপের পরিচালক

গত শুক্রবার দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠি এস আলম গ্রুপের একজন পরিচালক মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই মোরশেদুল আলম।

তিনি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালকও ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিত্তশালী এই পরিবারের মা-সহ আরো ৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।