অপরাধ করলে সাজা পেতে হবে

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

রেজা আল নাহিয়ান:

অপরাধ করলে সাজা পেতে হবে, এ কথার সাথে সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অপরাধীও দ্বিমত প্রকাশ করবে না। তারপরও কেন আমরা ছোট/বড় অপরাধ করছি প্রতিনিয়ত।

শিশু হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, যেকোনো হত্যাকাণ্ড বা যেকোনো অপরাধ(ড্রাগ, যৌন নির্যাতন, অন্যায়-উৎপীড়ণ, অন্যের হক মেরে খাওয়া, দুর্নীতি, চুরি, দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে ঠকানো) মানুষ কেন করে?

যখন অপরাধ করে ধরা পড়ার ঝুঁকির চেয়ে অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সুবিধা বেশি হয়, তখন মানুষ অপরাধ করে থাকে। অন্যদিকে যখন অপরাধের মাধ্যমে অন্যদের সুবিধা পেতে দেখে, তখন নিজেও অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। আবার কারো কারো মধ্যে অপরাধ করার একটা প্রবণতা থাকেই। অর্থাৎ তার মধ্যে অপরাধ করার জন্য এক ধরনের জিনগত প্রস্তুতি নিয়েই তারা জন্মায়। শৈশবে যারা ভালোবাসা পায় না, নির্যাতন ও ঘৃণার মধ্যে, অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের মধ্যে, বাস্তব ঝুঁকির মধ্যে যারা বেড়ে ওঠে; তাদের কারো কারো মধ্যে এই প্রবণতা থাকে। যখন মানুষ উপলব্ধি করে যে সে যতই চেষ্টা করুক, তার আর্থিক অবস্থা উন্নতি করা একদম সম্ভব নয়, অথচ সে খুবই বঞ্চিত, তখন তার মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা বাড়তে পারে। সমাজ সম্পদশালীদের মূল্যায়ন করে। দরিদ্র সম্পদ পাওয়ার আশায় অপরাধ করে। সম্পদশালী আরো সম্পদের আশায় অপরাধ করে। তবে সম্পদশালীর তুলনায় দরিদ্ররা বেশি ধরা পড়ে। কারণ, সমাজ সম্পদশালীদের পক্ষে।সমাজে যখন অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, যখন নৈতিকতার অবক্ষয় হয়, তখন এই সমাজের সদস্যদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

কোনটি নীতি, কোনটি নীতি নয় সেই ধারণা পরিষ্কার না থাকলে সমস্যা তৈরি হয়। যেসব পরিবারে নৈতিকতাকে মূল্যায়ন করা হয় না, অনৈতিক কাজের এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে—সেসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেশি থাকে। এই কারণগুলো ছাড়া আরো বহু কারণে আমরা অপরাধ জগতে ঢুকে পড়ি। কিন্তু কেন? অথচ এই পৃথিবীতে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাইনি।

যতই অপরাধ করেন, লোভের সাম্রাজ্য গড়েন, কোন লাভ নেই। একদিন না একদিন সেই সাম্রাজ্য এবং অপরাধের সমাপ্তি ঘঠবেই। অনেকেই এখন মনে করতেছে ওসি প্রদীপ সাহেব অপরাধ করেছেন এবং তার বিশাল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটলো। এর সুযোগ নিয়ে ড্রাগ ব্যবসায়ীরা আবারো সচল হবে এবং আগের মতো জ্বলে উঠবে পুরনো খেলায়। সাবধান! যে কোন মুহুর্তে আপনাদের সাম্রাজ্য শেষ হয়ে আসবে। তাই প্রস্তুত থাকুন এই ভয়ংকর অপরাধের শাস্তি ভোগ করার জন্য।
এটলিস্ট এই আলোচিত ঘঠনা থেক শিক্ষা নিতে পারেন। গতকাল যে ছিল আইন-শৃংখলার রক্ষক আজকে সেই ব্যাক্তি আইনের চোখি ভয়াবহ অপরাধী। তাই আইন কাউকেই ছাড় দিবেনা।

একমাত্র ‘সুশিক্ষা, উন্নত চিন্তাভাবনা এবং সুন্দর দৃষ্টিভংগই আপনাকে একটি সুন্দর সমাজ উপহার দিবে’।

লেখক:রেজা আল নাহিয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।