অনন্ত দীপ্তি ; কবি রফিকুল ইসলাম রাইসুল

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

আমাকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়,
আমাকে ভুলতে গেলে এই প্রজন্ম বাদ
পরবর্তী সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
আমাকে ভুলে যাওয়া কখনোও সম্ভব নয়,
ভুলতে গেলে তোমাদেরই হবে লোকসান।
হিসেবনিকেশে নয় কুল কিনারা কিচ্ছুই পাবে না,
পাবে না অভিনব সুভাষের আলোকবর্তিকার কোন নিশান?

আমার অবিনাশী কবিতারা,শব্দরা আমাকে ভুলিতে দিবে না,
আমার স্মৃতিগুলো তোমাদেরকে আজীবন বিরক্ত করবে একটুও ছাড় পাবে না।
আমাকে ভুলে যাওয়া কঠিন,
আমি হারিয়ে গেলে ভুলিতে দিবো সেদিন।
মুক্তি পাবে,তখনি মুক্তি পাবে।
আমাকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব কঠিন।

আমি দুর্ভিক্ষের চেয়েও নির্মম,
ইটপাটকেলে দুর্ধর্ষ শ্রমিকের চেয়েও অধিক স-উদ্যম।
আমি ডাস্টবিনের ময়লায় ভর করা জীবন কমরেডের মতো বেঁচে থাকতে করি সংগ্রাম।
আমার অস্তিত্বে,বিশ্বাসে,মগজে!
আমার সংবিধানে এটাই দর্পণ।
আমি হতাশার কমরেড!
বিষাদের মহাপ্রাচীরে আমার দেখা মিলবে,
ধড়িবাজের অশুভ ঘায়েলে অর্ধমৃত আদমিতে খুঁজে পাবে আমার ঔপম্য।
বেঁকে যাওয়া ভেদরহিত থেকে,
পৃথিবীতে সুখ চাষ করে বিলিয়ে দিবো ভালোবাসার অর্পণ।
সৃজন হবে ঐশ্বর্যের তারতম্য,
আমাকে ভুলে যাওয়া খুউব কঠিন।

আমি ভোর অঁজিষ্ণুর চাকচিক্যের মতো আলো ঝলমলে প্রতিচ্ছবি,
বিকেলের স্নিগ্ধ ছায়া!
সায়াহ্নের আবিরে মায়ার বন্ধনে হামাগুড়ি দেয়া একজন বিব্রত কবি।
শব্দের সাথে লাজনম্রে বসত ধরে,
কবিতার জগতে বন্যা হয়ে,
ঠাঁই নেয়া আমার অহেতুক দাবি।
আমি থমথমে রাতের নিথর স্বপ্নের জোরালো প্রতীক,
মাঝরাতের ভাঙা ঘুমের ভয়ঙ্কর আকস্মিকতার তসদিক।
আমাকে ভুলে যাওয়া সীমাহীন দুস্তোষ্য।

রাজপথের অলিগলিতে সোচ্চার কণ্ঠে,
প্রতিবাদের অপ্রকৃষ্ট,অনৌচিত্যে,
হিতৈষীর দিব্যে!
বন্দোবস্ত করা আমি এক শাশ্বত শুভার্থী,
অকুণ্ঠ অজবীথি,ধরণী বিনির্মাণে স্পর্ধিত প্রার্থী।
আমাকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়,
আমাকে ভুলে যাওয়া কখনো সম্ভব নয়।