মান্দায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : ভিন্নখাতে প্রবাহিতের চেষ্টা!

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় নাছিমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্ঠা চলছে। উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ নাছিমা বেগম ভারশোঁ গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে লিটন হোসেনের স্ত্রী এবং জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের ওমর আলীর মেয়ে। সোমবার বিকেলে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, নাছিমা বেগমের অনত্র বিয়ে হয়েছিল। সে পক্ষের একটি সন্তানও আছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর নাছিমা বাবার বাড়িতে ছিলেন। গত ছয়মাস পূর্বে লিটনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে নাছিমার বিয়ে হয়। লিটনের প্রথমে পক্ষের স্ত্রী জান্নাতুন বেগমের তিন বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। নাছিমাকে বিয়ে করায় লিটনের পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে লিটনের সাথে প্রথম পক্ষের স্ত্রী জান্নাতুন বেগমের মনোমানিল্য ঘটে। এরইমধ্যে নাছিমা অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে।

গৃহবধূ নাছিমার শাশুড়ী মালেকা বিবি, স্বামী লিটন ও স্ত্রী জান্নাতুনের পরিবারের চাপে যোগসাজস করে নাছিমার গর্ভপাতের চেষ্ঠা চালানো হয়। এতে তারা ব্যর্থ হয়। এক সময় শাশুড়ী মালেকা বিবি গৃহবধূ নাছিমার পেটে সজোরে লাথি মারলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তার অকাল গর্ভপাত ঘটে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর থেকে নাছিমা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গত ১৫-২০দিন গ্রামের বাচ্চুর মাছের হ্যাঁচারির পাশে এক ঘরে আশ্রয় নেয়। এমতবস্থায় গত রোববার রাত ১০টার দিকে নামিছা অসুস্থ হলে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ডায়রিয়ায় শরীরে পানিশুণ্যতায় নাছিমার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। গৃহবধু নাছিমার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরপর থানা পুলিশে সংবাদ দিলে সোমবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

মান্দা থানার কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহাবুব আলম বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে অসুস্থতা জনিত কারণে গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের বাবার সন্দেহ হলে সোমবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দেয়। বিকেলে লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।



লেখাটি পঠিত হয়েছে 264 বার।