ঈদগাঁওতে সাবেক ছাত্রনেতা দুবাই ফরিদের প্রসংশনীয় দৃষ্টান্ত

মিছবাহ উদ্দিন,ঈদগাঁও:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে দীর্ঘদিন রাস্তায় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ কিশোরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। এ ঘটনাটি স্থানীয় সচেতন ও সুধী মহলের নজর কেড়েছে। এ ধরণের সেবামূলক, মানবিক ও মহৎ উদ্যোগে অন্যদেরও এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন ঐ নেতা।
জানা যায়, ঈদগাঁও বাসস্টেশনের গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন জামালের মোটর সাইকেল গ্যারেজের সামনে ডাস্টবিনে দীর্ঘ ৪/৫দিন যাবত অভূক্ত ও অনাহারে পড়ে থাকে এক বেওয়ারিশ কিশোর। খাদ্যের অভাবে তার শরীর কঙ্কালপ্রায়। ব্যাপারটি এতদিন কারো নজরে পড়েনি। স্থানীয় পূর্ব জাগির পাড়ার বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম প্রকাশ দুবাই ফরিদ সোমবার সকালে ঐ গ্যারেজে মোটর বাইক ঠিক করতে যান। সেখানে শোয়া অবস্থায় দেখতে পান এক কিশোরকে। তার চোখ বন্ধ ছিল। চর্তুদিকে মশা এবং মাছির আনাগোনা। উপস্থিত লোকজন থেকে জানতে পারেন যে, গত ৪ দিন যাবত ঐ কিশোরটি সে অবস্থায় ছিল। তিনি তাকে নিজ হাতে উঠালেন। চেষ্টা করলেন কথা বলার। কিন্তু ছেলেটি বোবা হওয়ায় তার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছিল না। তাৎক্ষণিক তিনি তার জন্য কলা, রুটির ব্যবস্থা করলেন। কিশোরটি একটু নড়াচড়া শুরু করলে লোকজনের সহায়তায় তাকে ধরাধরি করে রিক্সাযোগে বাজারের জাগির পাড়া রোডস্থ বরফ মিলের সামনে নিয়ে আসেন। পরে সেলুন কর্মী ডেকে তার চুল কাটার ব্যবস্থা করেন। তারপর নিজ হাতে তাকে সাবান দিয়ে গোসল করান। পরে বাজারের মডার্ন হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইউসুফ আলীর কাছে নিয়ে গেলে তিনি তার রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন।
কথা মতে, দুবাই ফরিদ তার রক্ত পরীক্ষা শেষে তাকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে দুপুরের খাওয়া দাওয়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। বিকাল ৪টা নাগাদ রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখিয়ে ঐ ডাক্তারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ গ্রহণ ও ঔষধপথ্য কিনে দেন। আস্তে আস্তে যুবকটি স্বাভাবিক হয়ে উঠে। কিন্তু সে বোবা হওয়ায় তার অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন এবং বাড়িঘর সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি ঐ নেতা।
জানতে চাইলে স্থানীয় ফরিদ আহমদ কলেজ ছাত্রলীগের ১৯৯৪-৯৫ সেশনের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম প্রকাশ দুবাই ফরিদ জানান, প্রথমাবস্থায় যুবকটির শরীর থেকে অসহ্য দূর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তাকে নিজ হাতে গোসল এবং খাওয়া-দাওয়া করান। তিনি বলেন, এভাবে বেওয়ারিশ, অসহায়দের আপনজন ভেবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলে তারাও সমাজের মূল স্রোতধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে। আমরা সাধারণ লোকজন অবচেতন থাকায় অনেক বিষয়ে আমাদের নজরে আসে না। উপযুক্ত পরিচর্যা ও পরিবেশের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় লোক এভাবে পথের মানুষে পরিণত হচ্ছে। তিনি যুবকটির অভিভাবক না পাওয়া পর্যন্ত তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান। এলাকার লোকজন জানান, দুবাই ফেরত ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন সময় এভাবে এলাকার অসহায় ও খেটে খাওয়া লোকজনের খোঁজ খবর রাখেন।



লেখাটি পঠিত হয়েছে 575 বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *