এবার বাড্ডায় বাবা-মেয়ে খুন

ক্রাইম রিপোর্টার:

রাজধানীর কাকরাইলে একসঙ্গে মা-ছেলে খুন হওয়ার একদিন পেরোনোর আগেই এবার বাড্ডায় একসঙ্গে বাবা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকার ময়নারটেকের একটি বাসা থেকে বাবা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন জামিল শেখ (৪১) ও মেয়ে নুসরাত (৯)। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন,  ‘কে বা কারা এবং কেন তাদের হত্যা করেছে তা পরিষ্কার নয়। তবে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জামিল শেখের স্ত্রী আরজিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, জামিল শেখের শরীরে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাতের অনেক চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

ওই বাড়ির মালিক দুলাল পাঠান জানান, মাস খানেক আগে ময়নবারবাগের ৩০৬ নাম্বার গোরস্থন রোডের তার তিন তলা বাসার চিলেকোঠা ভাড়া নেন জামিল শেখ। পেশায় গাড়িচালক জামিল শেখের বাসায় এক যুবক সাবলেট ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ছাদে কান্নার শব্দ পেয়ে ছাদে উঠে দেখেন জামিল শেখের স্ত্রী আরজিনা কাঁদছে। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আরজিনা চারজন সন্ত্রাসী তার স্বামী ও মেয়েকে মেরে ফেলেছে বলে জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘরে গিয়ে দুজনের লাশ দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

তবে বাড্ডা থানার পুলিশ বলছে, আরজিনার কথাবার্তা অসংলগ্ন। সে বাড়ির মালিককে চারজন সন্ত্রাসীর কথা বললেও তাদের কাছে সে কিছু দেখেনি বলে দাবি করছে। তারা ধারণা করছেন পারিবারিক কলহের জেল ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত জামিল শেখের বড় ভাই দুলাল শেখ জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ ছিল। বিয়ের পর থেকেই তাদের পরিবারে অশান্তি লেগে ছিল। আরজিনা মোবাইলে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলতো এ নিয়ে তাদের ঝগড়াও হয়েছে অনেক। এছাড়া নতুন এই বাসায় ওঠার আগে আরজিনা রাগ করে সাভারের ইপিজেড এলাকায় তার মায়ের বাড়িতে গিয়ে দুই মাস অবস্থান করে। পরে গত মাসে আবার স্বামীর কাছে ফিরে আসে।

দুলাল শেখের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরে আরজিনাই লাঠি দিয়ে তার ভাইকে আঘাত করে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনাটি দেখে ফেলায় মেয়ে নুসরাতকে গলা টিপে হত্যা করেছে। আরজিনার হাতে খামচির দাগও রয়েছে। গলা টিপে ধরার সময় নুসরাত হয়তো তা ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল।

স্বজনরা জানায়, জামিল শেখ গুলশান দুই নম্বরে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে আরেকজন হলো আলফি। ছোট এই ছেলেটির বয়স ৫ বছর। জামিল শেখের বাবার নাম বেলায়েত শেখ। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের বনগ্রামে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ জানান, আরজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, একদিন আগে গত বুধবারই কাকরাইল এলাকার একটি বাসা থেকে মা শামসুন্নাহার করিম ও ছেলে শাওনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করেছে। পুলিশ ওই ঘটনায় শামসুন্নাহার করিমের স্বামী অব্দুল করিম, বাসার গৃহকর্মী রাশেদা ও দারোয়ান নোমানকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

-বাংলা ট্রিবিউন



লেখাটি পঠিত হয়েছে 289 বার।