কোহালির সামনে শুধু শচীন টেন্ডুলকার !

নিউজ ডেস্ক#

ভারতীয় ক্রিকেটের ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার নিচে জায়গা করে নিলেন বিরাট কোহলি। ‘বিরাট কোহলি’ বলারদের জন্য তিনি রীতিমত আতংকের নাম। দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় স্কিল আর ধারাবাহিক সাফল্যের উড়ানে ভর করেই কোহলি ডানা মেলেছেন ক্রিকেটের আকাশে। সেই বিরাট কোহলি এবার তার ক্যারিয়ারের ৩১তম সেঞ্চুরি পূরণ করলেন।

আইসিসি  র‌্যাঙ্কিং-এ ২ নম্বরে থাক ভারতীয় অধিনায়কের সামনে এখন ৪৯ সেঞ্চুরি নিয়ে আছেন ক্রিকেটের ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার। রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষ কোহলি করেছেন ১২১ রান। ১২৫ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ওভার বাউন্ডারিতে  ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। ভারত এই রানে ভর করে ২৮১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে কিউদের। প্রথম দিকে পরপর তিন উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক বিরাট কোহালির নেতৃত্বে ধীরে ধীরে ঘুরে দাড়ায় ভারতীয় দল।

ক্যারিয়ারের ২০০ তম ম্যাচ খেলে ৩১টি সেঞ্চুরি মালিক ভারতের অধিনায়ক। এবি ডেভিলিয়ার্সের পর কোহালিই দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান যিনি নিজের ২০০তম ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। এই সেঞ্চুরির পর একদিনের ক্রিকেটে সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে পেছনে ফেললেন কোহালি।

২০০তম ওডিআই-তে অংশগ্রহণকারীদের রানের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন কোহলি। ভারতীয় অধিনায়ক ২০০৮ সালে ১৮ অক্টোবর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম অন-ডে খেলেছিলেন কোহলি, ৫৫.৫৫ গড়ে ৮৮৮৮ রান করেছেন।

এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স, যিনি ৮৬২১ রান করেছেন ৫৪.৫৬ গড়ে, তার ঝুলিতে আছে ২২ শতক। এরপরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ডেসমন্ড হেইন্স, ২০০ ওয়ানডে ম্যাচে ৪২.৫৪ গড়ে তিনি করেছেন ৭৪৪৫ রান ।

কিন্তু শতকের দিক থেকে পেছনে থাকলেও ২০০ তম ম্যাচের পরে গড়ের দিক থেকে টেন্ডুলকারের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ২৮ বছর বয়সী কোহলি। টেন্ডুলকারের ২০০ ম্যাচের পরে গড় ছিল ৪১.৯৭। তাছাড়া কোহলি তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন অষ্টম ম্যাচে, টেন্ডুলকারের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে শতক করেন ৭৬ তম ম্যাচ খেলে।

ভারতের এই রান-মেশিনের ক্যারিয়ারের আরও অনেক পথ বাকি। ম্যাচের শেষে ভিভিএস লাক্সমান টুইট করেছেন, ‘মাত্র ২০০ ম্যাচে ৩১ শতক! সামনে আরো ৯-১০ বছর রয়েছে আকাশ ছুঁতে।’

১৯৮৮ সালে ৫ নভেম্বরে দিল্লিতে প্রেম ও সরোজ কোহলি দম্পতির ঘরে বিরাট কোহলি জন্মগ্রহণ করেন। কোহলির বাবা পেশায় আইনজীবি ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে বাবাকে হারান বিরাট। বাবার স্মরণে নিজের জার্সির পেছনে তাই ১৮ সংখ্যাটি বসিয়েছেন।

একদিনের ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কিংস্টনে। ২০১১/১২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দলের ব্যাপক ব্যাটিং-বিপর্যয় ঘটে। সেখানে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়গণ ব্যর্থ হলেও কোহলি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে তার প্রথম শতক হাঁকান।

এছাড়াও,বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

২০১২ সালে আইসিসির বর্ষসেরা একদিনের ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি পুরস্কার লাভের মর্যাদা লাভ করেন কোহলি। ২০১৬ সালে উইজডেন কর্তৃক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারের মর্যাদা পান।
২০১৪ সালে মার্টিন ক্রো টেস্ট ক্রিকেটের তরুণ চার ফ্যাবের অন্যতম হিসেবে জো রুট, কেন উইলিয়ামসন ও স্টিভ স্মিথের সাথে তাকেও অন্তর্ভূক্ত করেন।

বিরাট কোহলি আজ আর নিছকই কোনও ক্রিকেটার নন৷ সুনীল গাভাস্কর, শচীন টেন্ডুলকারদের পরবর্তী সময় ভারতীয় ক্রিকেটের রুপকথার নায়ক তিনি। সারা ক্রিকেট বিশ্ব কোহলিকে অন্য চোখেই দেখে। বিপক্ষের অধিনায়ককে শুধু কোহলির উইকেটের জন্যই আলাদা প্ল্যান তৈরি করতে হয়। ঘুম উড়িয়ে দেন বিপক্ষের বোলারদেরও। এমন কী প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারও চান তার থেকে ব্যাটিং টিপস।



লেখাটি পঠিত হয়েছে 79 বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *